আবনা ডেস্ক: ইউরোপের একটি মানবাধিকার সংগঠন দাবি তুলেছে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের ব্যবহার করে তাদের গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
রোহিঙ্গা যুবকদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে পুলিশ।
এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অভিযান পরিচালনার বৈধতা পায় মিয়ানমার।
ইউরোপভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দ্য ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিলের (ইআরসি) চেয়ারম্যান খায়রুল আমিন এসব কথা বলেন।
আনাদোলু এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৯ অক্টোবরে পুলিশ ক্যাম্পে হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘর, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। দারিদ্রতার কারণে সৃষ্ট হতাশা, বৈধ স্বীকৃতির অভাব ও সেনাবাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ রোহিঙ্গাদের এসব কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি আমিনের।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা তরুণদের কাছে পুলিশের পুরাতন অস্ত্র বিক্রি করা হয়। আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর নজর পাওয়া ও তাদের জাতিকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায় তারা।
আমিন আরও বলেন, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা জানত, এ ফাঁদ তাদের জন্য কাজে আসবে। ফলে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো সহজ হবে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে এরই মধ্যে বসতবাড়ি, মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজসহ প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। নির্যাতনের ভয়ে পালিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
আমিন বলেন, প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জঙ্গল, ধানক্ষেত ও পাহাড়ের গুহায় অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই পাড়ি দিচ্ছেন প্রতিবেশী বাংলাদেশে।
তিনি বলেন, জাতিগতভাবে নিধন করার লক্ষ্যেই হেলিকপ্টার দিয়ে অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তারা বিশ্ববাসীকে এটা বোঝাতে চাচ্ছে, মিয়ানমারে জঙ্গি ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে থাকা জঙ্গিদের দমনে তারা অভিযান পরিচালনা করছে।
৩০ নভেম্বর ২০১৬ - ০১:১৯
News ID: 795093
ইউরোপের একটি মানবাধিকার সংগঠন দাবি তুলেছে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের ব্যবহার করে তাদের গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।